হামের উপসর্গে ৩১৭ শিশুর মৃত্যু: হাম নিয়ন্ত্রণে নিষ্ক্রিয়তায় হাইকোর্টের রুল
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 05 May, 2026
হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা) দেশে আরও ৬ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে দুই শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল চার শিশুর।
এ সময় সারা দেশে আরও ১ হাজার ১৮৬ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাম শনাক্ত হয়ে দুই শিশু ঢাকায় মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে খুলনা ও রাজশাহীতে দুজন এবং সিলেটে দুজন মারা গেছে।
আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ২৬৩ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৫৪ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪২ হাজার ৯৭৯ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৯ হাজার ৮৩১ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছে ২৬ হাজার ৩৬৮ শিশু।
১৫ মার্চ থেকে দেশে ৫ হাজার ৭২৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এদিকে, হামের প্রকোপে শিশুমৃত্যু রোধে নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন।
রুলসহ আদেশের বিষয়টি আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) জানিয়েছেন রিট আবেদনকারী আইনজীবী লুৎফে জাহান পূর্ণিমা। তিনি বলেছেন, সারা দেশে হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। টিকা সরবরাহে অবহেলা নিয়ে কমিটি হলে কতটুকু কী হয়েছে, সে বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে।
অবশ্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিদুল ইসলাম জনি প্রথম আলোকে বলেন, হামের প্রকোপ রোধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
হামের প্রকোপে ভ্যাকসিনেশন কভারেজ ও ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা এবং এ বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপ–সম্পর্কিত বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী লুৎফে জাহান পূর্ণিমা ২ এপ্রিল রিটটি করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মহাপরিচালক এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালকসহ ছয়জনকে রিটে বিবাদী করা হয়। আদালতে রিটের পক্ষে আবেদনকারী নিজেই শুনানিতে অংশ নেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিদুল ইসলাম জনি।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

